শিরোনাম
চকরিয়া প্রতিনিধি: | ০৪:০৯ পিএম, ২০২৪-০৩-১৬
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার এবং মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নামে দুই ভাইয়ের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে বাবার সম্পত্তির অছিয়তনামা দলিল তৈরী করে অপর ভাই-বোনদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের নামে ইচ্ছেমত নিজেদের অংশের চাইতে বেশি জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তাদের তৈরী অছিয়তনামা দলিল অনুযায়ী ঘোষিত অংশটুকুও তাদের বড় ভাই মরহুম আব্দুল মান্নানের স্ত্রী-সন্তানদের বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে নিজেরা এবং তাদের স্ত্রী-সন্তান এবং শ্যালকের নামে জালিয়াতি করে খতিয়ান তৈরি করে আত্মসাৎ করে নেন। সূত্রমতে, মরহুম আব্দুল হামিদ প্রায় ২০ একর ৫৭ শতক জমির মালিক। যার বিএস খতিয়ান নং ৫৯, ৯০। তার তিন ছেলে ও ছয় মেয়ে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী অংশীদারগণের মধ্যে মোট সম্পত্তির বণ্টণ অনুযায়ী তার প্রথম পুত্র মরহুম আবদুল মান্নানের ওয়ারিশ হিসেবে তার স্ত্রী এরফান আরা বেগম ও চার কন্যা সাবিনা নাছরিন, পাকিজা মরিয়ম রিমু, সায়মা জন্নাত সোহানা এবং নাজনীন আক্তার প্রায় ৪ (চার) একরের অধিক জমির অংশীদার। মৃত্যুর পূর্বে আব্দুল হামিদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেসময় তার দুই ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার এবং মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মিলে তাদের অপর ভাই-বোনদের অজান্তে কৌশলে প্রতারণামূলকভাবে জালিয়াতি করে একটা অছিয়ত নামা দলিল তৈরী করে তাদের দুইজনের ইচ্ছেমত নিজেদের অংশের চাইতে বেশি জমি দলিল করে নেন। আব্দুল হামিদের মৃত্যুর কয়েক বছর পর তার প্রথম পুত্র মরহুম আব্দুল মান্নানের স্ত্রী-সন্তানেরা জমি বণ্টনের বিষয়ে একাধিকবার মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার এবং মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সাথে কথা বললে তারা প্রতিবারই আশ্বস্থ করে মরহুম আব্দুল মান্নানের প্রাপ্য অংশটুকু তাদের বুঝিয়ে দিবেন বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন অছিয়তনামা দলিল তৈরী করে তারা নিজের ইচ্ছেমত সম্পত্তি বণ্টন করে নেন। মরহুম আব্দুল মান্নানের স্ত্রী-সন্তানেরা ওয়ারিশ সূত্রে ৪ একরের অধিক জমির অংশীদার হওয়া স্বত্বেও সেই অছিয়তনামায় মাত্র ১ একর ৬০ শতাংশের উল্লেখ রয়েছে জানতে পারেন। অতঃপর মরহুম আব্দুল মান্নানের স্ত্রী এরফান আরা বেগম ও ৪ সন্তান তাদের প্রাপ্যাংশ আইনানুগ বন্টণের দাবী করেন। বির্তকিত অছিয়তনামা সৃজনকারী মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার ও সাহাবুদ্দিন তাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছি-দেবো করে কেবলি কালক্ষেপণ করতে থাকেন। ইতোমধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার ও সাহাবুদ্দিন মিলে তাদের বড় ভাই মরহুম আব্দুল মান্নানের অছিয়তনামা অনুযায়ী পাওয়া ১ একর ৬০ শতক জমির অংশটুকুও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ স্ত্রী-সন্তান এমনকি শ্যালকের নামে অধিক পরিমাণ জমির খতিয়ান করে নেয়। জানা গেছে, অত্যন্ত ধূর্ত এবং ভূমিদস্যু আব্দুল গাফফার ও সাহাবুদ্দিন গং জমির সঠিক কাগজ-পত্র আরফান আরা বেগমকে পেতে দিচ্ছেনা। প্রতারণামূলকভাবে তৈরী উক্ত অছিয়তনামায় দেখা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পশ্চিম বড় ভেওলা মৌজা ও ইউনিয়স্থ জে.এল নং-৪৬ এর বিএস ৫৯ নং খতিয়ানের ২৩৩ দাগে ২৫ শতক, ৪০২ দাগে ৩০ শতক, ৪০৪ দাগে ১১ শতক, বিএস ৯০ নং খতিয়ানে ১৩৭০ দাগে ৮৩ শতক এবং ১২০৮ দাগে ১১ শতকসহ সর্বমোট ১ একর ৬০ শতক। অথচ ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী মোট সম্পত্তিতে মরহুম আব্দুল মান্নানের স্ত্রী এরফান আরা বেগম এবং সন্তান অর্থাৎ ৪ কন্যা সাবিনা নাছরিন, পাকিজা মরিয়ম রিমু, সায়মা জান্নাত সোহানা এবং নাজনীন আক্তারদের প্রাপ্যাংশ ৪ একরের চেয়েও বেশি। আর্থিক দুরবস্থার দরুন স্বামীহারা আব্দুল মান্নানের স্ত্রী আরফান আরা বেগম এবং তার ৪ কন্যা সন্তানরা এলাকায় প্রভাবশালী এবং নানান অপকর্মের হোতা ভূমিখেকো দুই জালিয়াতের বিরুদ্ধে নুন্যতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেনা। নানান আবেদন নিবেদন আর দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েও কোন কূল কিনারা করতে পারছেননা স্বামীহারা এরফান আরা বেগম। প্রশ্ন উঠেছে অছিয়তনামার সত্যতা নিয়ে। অছিয়তনামাটি যে বৈধ তা কীভাবে প্রমাণ হয়? দীর্ঘদিন এই অছিয়তনামা কেন গোপন রাখা হলো? এর রহস্য এবং উদ্দেশ্য কি? বির্তকিত অছিয়তনামার হিসেবে ঘোষিত অংশটুকু নিয়েও এত ঝামেলা এবং টালবাহানা কেন? সাম্প্রতিক সময়ে মূল মালিক মরহুম আব্দুল হামিদের প্রথম পুত্র মরহুম আব্দুল মান্নানের স্ত্রী কক্সবাজারের চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আব্দুল গাফফার ও সাহাবুদ্দিন গংদের অবৈধ নামজারী/জমাখারিজ বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। এলাকাবাসী ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জাল অছিয়তনামার রহস্য উদঘাটন ও জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট খতিয়ান, নামজারি-জমা খারিজ বাতিল করে আব্দুল গাফফার ও সাহাবুদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ আইনানুগ বন্টনের ভিত্তিতে আরফান আরা বেগম ও তার ৪ কন্যার প্রাপ্যাংশ বুঝিয়ে দেয়াই একমাত্র উপায়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আব্দুল গাফফার ও সাহাবুদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক: : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোরে সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার না থাকায় রোগী ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : ইসলামী হিজরি সনের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র জীবনের বহু ঐতিহাসিক ...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : অন্যদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও মিয়ানমারে ফেরার আগে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাশেদা বেগম (৩...বিস্তারিত
অনলাইন ডেস্ক: : মৎস্য চাষ ও উৎপাদনে অসামান্য অবদান রাখায় ৪ জনকে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। 'রূপালি মৎস্যে ...বিস্তারিত
টেকনাফ প্রতিনিধি : : টেকনাফ সদরের ডেইল পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া টেকনাফ মাদ্রাসার ছাত্র, হাফেজ আর...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Coxsbazar | Developed By Muktodhara Technology Limited